উদ্দীপকের মেয়েটির সঙ্গে 'মিনু' গল্পের মিনুর মিল রয়েছে।
একজন শিশুর কাছে বাবা-মা পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। পৃথিবীতে বাবা-মা না থাকলে একজন সন্তান অসহায় হয়ে পড়ে। তারা একা একা জীবনযুদ্ধে লিপ্ত হয়।
উদ্দীপকের মেয়েটির বয়স সাত বছর। তার মা নেই। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে ঘরে তার সৎমা নিয়ে আসে। সৎমা মেয়েটিকে অকারণে গাল দেয়। গায়ে হাতও তোলে। তার কোনো অবসর নেই। সারা দিন কেবল ফরমাশ খাটে। সারা দিন না খেয়েও থাকে। তার মাকে খুব মনে পড়ে। উদ্দীপকের মেয়েটির মতো 'মিনু' গল্পের মিনুও অসহায়। তার বয়স দশ বছর। তার বাবা-মা নেই। দূরসম্পর্কের পিসির বাড়িতে সে পেটে-ভাতে থাকে। বাড়ির সব কাজ নিজের হাতে করে। তাই বলা যায় যে, অসহায়ত্ব ও অবস্থাগত দিক থেকে উদ্দীপকের মেয়েটির সঙ্গে 'মিনু' গল্পের মিনুর মিল রয়েছে।
Related Question
View Allমিনু তার এক দূরসম্পর্কের পিসিমার বাড়িতে থাকত।
ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলতে চোখ, কান, নাক, জিভ ও ত্বকের বাইরে মানুষের তীক্ষ্ণ অনুভূতিশক্তিকে বোঝানো হয়েছে।
ছোট মেয়ে মিনু বোবা ও বধির। চিৎকার করে বললে সে কথা শুনতে পায়। ঠোঁট নাড়া আর মুখের ভাব দেখেই সব বুঝতে পারে সে। মিনু তীক্ষ্ণ অনুভূতিশক্তি দিয়ে এমন সব জিনিস বুঝতে পারে, এমন সব জিনিস সৃষ্টি করে যা সাধারণের দ্বারা কষ্টসাধ্য। মিনুর এ অনুভূতিশক্তিকেই ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় হিসেবে বোঝানো হয়েছে।
অবস্থানগত দিক থেকে উদ্দীপকের বন্যা ও মিনুর মধ্যে 'বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
পৃথিবীতে ভালো-মন্দ দু'রকম মানুষেরই সংমিশ্রণ রয়েছে। ভালো মনের মানুষ পরকেও আপন করে নেয়। আবার মন্দ মনের মানুষ আপনকেও সহজেই পর করে দেয়।
উদ্দীপকের বন্যা মিসেস সালমার বাসায় কাজ করে। সালমা তার আত্মীয় নয়, কিন্তু বন্যাকে স্কুলে পড়াশুনার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এছাড়া বন্যার গুণে তিনি তাকে পরিবারের একজন সদস্য মনে করেন। অন্যদিকে 'মিনু' গল্পের মিনু তার দূরসম্পর্কের পিসিমার বাড়িতে থাকলেও তাকে নানা রকম কাজ করতে হয়। সেখানে বন্যার মতো মিনু পড়াশুনার সুযোগ পায়নি। মিনু ও বন্যা উভয়কেই অন্যের সংসারে কাজ করতে হয়। কিন্তু অবস্থানগত কারণে বন্যা বেশি সুযোগ-সুবিধা পায় আর মিনু বঞ্চনার শিকার হয়- উভয়ের মাঝে এই বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
বন্যার শিক্ষা ছিল প্রাতিষ্ঠানিক, আর প্রকৃতি হচ্ছে মিনুর পাঠশালা- মন্তব্যটি যথার্থ।
শিক্ষা মানবজীবনের অপরিহার্য সম্পদ। শিক্ষাগ্রহণ মানুষের জন্মগত অধিকার। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরেও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে মানুষ শিক্ষাগ্রহণ করে এবং সেটাকে সে তার যাপিত জীবনে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করে।
উদ্দীপকের বন্যা এবং 'মিনু' গল্পের মিনুর শিক্ষাগ্রহণের ক্ষেত্রের পার্থক্য রয়েছে। বন্যা সারা সকাল মিসেস সালমার বাসায় কাজ করে দিবা শাখার স্কুলে পড়ালেখা করে। সে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ পেলেও বাইরের জগতের শিক্ষা পায়নি। অপরপক্ষে মিনু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না পেলেও প্রকৃতির কাছ থেকে সে শিক্ষা গ্রহণ করেছে।
'মিনু' বাকপ্রতিবন্ধী হলেও তার তীক্ষ্ণ অনুভূতিশক্তি রয়েছে। সেও অন্যের বাড়িতে কাজ করে। প্রকৃতি তার শিক্ষা গ্রহণের পাঠশালা। উদ্দীপকের বন্যার মতো মিনুর বন্ধুত্ব না হলেও প্রকৃতির মাঝে সে শিক্ষা ও সাহচর্য খুঁজে নেয়। তাই বলা যায় বন্যার শিক্ষা ছিল প্রাতিষ্ঠানিক, আর প্রকৃতি হচ্ছে মিনুর পাঠশালা- মন্তব্যটি যথার্থ।
বনফুলের প্রকৃত নাম বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়।
শুকতারা মিনুর মতোই খুব ভোরে জেগে ওঠে বলে সে শুকতারাকে সই বলেছে।
পিতৃ-মাতৃহীন মিনু দূরসম্পর্কের পিসিমার বাড়িতে থাকে। বাড়ির সমস্ত কাজকর্ম সে একাই করে। তাই প্রতিদিন ভোরে মিনুকে ঘুম থেকে উঠতে হয়। এরপর প্রথম সাক্ষাৎ ঘটে শুকতারার সাথে। সে মনে করে শুকতারাও হয়তো তার মতোই কয়লা ভাঙার কাজের জন্য ঘুম থেকে জেগে উঠেছে। মিনু এ কারণেই শুকতারাকে সই বলেছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
